রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল দুই তৃণমূল নেতাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে। একদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে ধরা পড়লেন এক তৃণমূল কাউন্সিলর, অন্যদিকে বসিরহাটে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হলেন আরও এক শাসকদলের নেতা। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
সোনারপুরে মাছ চুরির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে খবর, গভীর রাতে একটি ভেড়ি থেকে মাছ চুরি করার অভিযোগ ওঠে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয় বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কাজ চলছিল। যদিও অভিযুক্ত কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
বসিরহাটে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার
অন্যদিকে, বসিরহাটে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও এক তৃণমূল নেতাকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সরকারি অর্থ নয়ছয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ধৃত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যে দুর্নীতি এখন “প্রাতিষ্ঠানিক রূপ” নিয়েছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আইন আইনের পথে চলবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড়া হবে না।
রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
একই দিনে দুই নেতাকে ঘিরে বিতর্ক সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীরা দাবি তুলেছে, রাজ্যের শাসকদলের ভেতরে দুর্নীতি ও অনিয়ম ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে ফায়দা তুলতেই এই ঘটনাগুলিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে।
আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই ঘটনাগুলির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
No Comment! Be the first one.