জলপাইগুড়ির আনন্দ চন্দ্র (এসি) কলেজে স্টুডেন্ট ইউনিয়ন রুমকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র দাবি, কলেজের স্টুডেন্ট ইউনিয়ন রুমের তালা ভেঙে তারা মদের বোতল, আপত্তিকর সামগ্রী এবং মহিলাদের পোশাক উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে কলেজ চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ABVP-র অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন রুমটি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নাগালের বাইরে ছিল। সেই কারণেই তারা রুমটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সংগঠনের সদস্যদের দাবি, রুমের ভেতরে ঢুকে তারা এমন কিছু সামগ্রী দেখতে পান যা কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এরপর উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় জোর বিতর্ক।
ABVP নেতাদের বক্তব্য, কলেজের ইউনিয়ন রুম ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে ব্যবহার হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে যদি মদের বোতল বা অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী পাওয়া যায়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কলেজে ভিড় জমাতে শুরু করেন ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ। অনেকেই এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে অপর একটি অংশের মত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে কলেজ রাজনীতিতেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে।
কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ না হলেও, সূত্রের খবর, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী, ইউনিয়ন রুমের ব্যবহার এবং তালা ভাঙার পরিস্থিতি—সব বিষয়ই তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।
আনন্দ চন্দ্র কলেজ উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু কলেজের ছাত্রছাত্রী নয়, জেলার শিক্ষামহলেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসা জরুরি, যাতে গুজব ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
বর্তমানে সকলের নজর কলেজ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হলে তবেই স্পষ্ট হবে, ABVP-র দাবি কতটা সত্য এবং এই ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী রয়েছে।
No Comment! Be the first one.