উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন পড়ুয়ার মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু ছাত্র-ছাত্রী, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোচিং সেন্টারের একটি অংশ থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় সিঁড়ি ও বেরোনোর পথ, ফলে বহু পড়ুয়া ভিতরে আটকে পড়েন।
প্রাণ বাঁচাতে অনেক ছাত্র-ছাত্রী জানালা থেকে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন। ঘটনাস্থলের একাধিক ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় দেখা গিয়েছে, আতঙ্কিত পড়ুয়ারা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন এবং নিচে উপস্থিত মানুষজন তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনটির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি নির্গমন পথের অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোচিং সেন্টার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত।
নিহত পড়ুয়াদের পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
লখনউয়ের এই দুর্ঘটনা শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি কঠিন সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
No Comment! Be the first one.