পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনপ্রিয় স্বল্পমূল্যের খাবার প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’-এর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখা হল ‘মা আহার’। সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
২০২১ সালে করোনা পরিস্থিতির সময় সাধারণ মানুষের কথা ভেবে চালু করা হয়েছিল ‘মা ক্যান্টিন’। খুব কম খরচে পেট ভরে খাবার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প শুরু হয়। মাত্র ৫ টাকায় ভাত, ডাল, সবজি ও ডিমের মিল পেয়ে উপকৃত হন হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, হকার ও নিম্ন আয়ের পরিবার।
কেন বদলানো হল নাম?
সরকারি সূত্রে খবর, শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বা পরিষেবা বন্ধ হচ্ছে না। বরং আরও বড় পরিসরে এই প্রকল্পকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘মা ক্যান্টিন’ নামের বদলে এখন থেকে ‘মা আহার’ নামে পরিচিত হবে এই পরিষেবা।
অনেকের মতে, নতুন নামের মাধ্যমে প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও বিরোধীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক কটাক্ষ শুরু করেছে।
বাড়ছে কেন্দ্রের সংখ্যা
বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৯০টি মা ক্যান্টিন কেন্দ্র চালু রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও ১১০টি নতুন কেন্দ্র যোগ করা হবে। ফলে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৫০০।
এতে রাজ্যের আরও বেশি মানুষ কম খরচে দুপুরের খাবার পেতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
খাবারের মেনুতেও আসতে পারে পরিবর্তন
সূত্রের খবর, শুধুমাত্র নাম নয়, খাবারের মেনুতেও কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট দিনে মাছ-ভাত দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত ঘোষণা এখনও করা হয়নি।
বর্তমানে সাধারণত ভাত, ডাল, সবজি এবং ডিম দেওয়া হয় ৫ টাকার বিনিময়ে। ভবিষ্যতে মেনু আরও উন্নত হতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
অনেক সাধারণ মানুষ এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এটি বড় সহায়তা। নাম পরিবর্তন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও অধিকাংশ মানুষের বক্তব্য, পরিষেবা ঠিকভাবে চালু থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বহু মানুষ এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করেন। তাই নতুন নামের সঙ্গে পরিষেবার উন্নতি হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য আরও উপকারী হবে বলেই মত অনেকের।
রাজনৈতিক চর্চা শুরু
এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, প্রকল্পকে আরও বড় আকারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন।
তবে সব বিতর্কের মাঝেও সাধারণ মানুষের নজর এখন একটাই বিষয়ের দিকে — ৫ টাকার খাবারের পরিষেবা আগের মতোই চালু থাকবে কি না এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে কি না।
উপসংহার
‘মা ক্যান্টিন’ থেকে ‘মা আহার’ — শুধুমাত্র নাম বদল নাকি নতুন পরিকল্পনার সূচনা, তা আগামীদিনেই স্পষ্ট হবে। তবে রাজ্যের হাজার হাজার সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রকল্প এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম খরচে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পৌঁছতে পারে বলেই মনে করছে অনেকেই।
No Comment! Be the first one.